মো: তানজিম হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার
রোজা শুধু আত্মসংযম নয়, এটি সম্প্রীতি ও সহমর্মিতারও শিক্ষা দেয়। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে দুই যুগ ধরে চলে আসছে বিশাল ইফতার আয়োজন, যেখানে প্রতিদিন হাজারো রোজাদার একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। গতকাল প্রথম রমজানে দুই হাজারের বেশি মানুষ এই আয়োজনে অংশ নেন।
মসজিদের খতিব মাওলানা ছাইয়্যেদ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল-মাদানী–এর তত্ত্বাবধানে ২০০১ সালে শুরু হওয়া এই আয়োজন ২৪ বছরে পা দিল। মক্কা-মদিনার আদলে এই ইফতার আয়োজন রমজানের শেষ দিকে আরও বড় পরিসরে রূপ নেবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
ইফতারের আগে মসজিদজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশ। সারিবদ্ধভাবে বসা রোজাদারদের সামনে সাজানো ছিল ইফতার। কেউ একা, কেউ বা ছয়জনের বড় থালায় ভাগ করে নিচ্ছেন খাবার। খেজুর, ছোলা, চমুচা, পেয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, মুড়ি, অন্তন, জিলাপি ও শরবত—সবার জন্য একই আয়োজন, ধনী-গরিব কোনো ভেদাভেদ নেই।
ইফতারের আগে অনুষ্ঠিত হয় রোজার ফজিলত নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মোনাজাত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষায় একসঙ্গে হাত তোলে হাজারো মানুষ।
ইফতারে অংশ নেওয়া রিকশাচালক আবু মিয়া বলেন, "রমজানে বেশি রিকশা চালাতে পারি না, তাই এখানে এসে ইফতার করি। প্রতিবছর এই আয়োজন আমাকে এক অন্যরকম শান্তি দেয়।"
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী ইরফান উদ্দিন বলেন, "বাসায় ভালো ইফতার হয়, কিন্তু এখানে এসে সবাই মিলে একসঙ্গে বসে ইফতার করার আনন্দই আলাদা। নামাজের মতো ইফতারেও সবাই সমান, এটিই ইসলামের সৌন্দর্য।"
এই বিশাল আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে ১২ জন বাবুর্চি পুরো রমজান মাসজুড়ে কাজ করবেন। ইফতার বিতরণে দায়িত্ব পালন করবেন ২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক।
১৬৬৭ সালে মোগলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের স্মৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদে ১৯৯৬ সালে খতিব হিসেবে যোগ দেন মাওলানা আনোয়ার হোসাইন। এরপর তার প্রচেষ্টায় ২০০১ সালে শুরু হয় ইফতার আয়োজন, যা ধীরে ধীরে বৃহৎ পরিসরে রূপ নেয়।
আন্দরকিল্লার এই ইফতার শুধু একটি আয়োজন নয়, এটি ইসলামী ভ্রাতৃত্বের প্রতিচ্ছবি, যা সমাজের সব শ্রেণিকে এক কাতারে নিয়ে আসে।