
বাংলাদেশের সনাতন সম্প্রদায় আট দফা দাবি আদায়ের জন্য চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে শুক্রবার যে সমাবেশে করেছে তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। ওই সমাবেশ থেকে দাবি আদায়ের জন্য ঢাকা অভিমুখে লংমার্চের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সেটিও অনেকের দৃষ্টিতে এসেছে।
এই ব্যাপারে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মানবাধিকারকর্মী সুমন চন্দ্র ভৌমিক চিটাগং ট্রিবিউন কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের পরিচিত সংগঠনগুলোর বাইরে বিশেষ করে সাধু সন্তদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের সমাবেশের লোক সমাগম গণমাধ্যমের দৃষ্টি কেড়েছে এবং আলোচনায়ও এসেছে।
“আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই এটা সনাতন সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। এটি সরকার বা কোন দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। সংবিধান, আইনকানুনসহ সব কিছুতে সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতা চাই আমরা, যাতে সবাই সমান মর্যাদা পেতে পারি,”
গত ৫৩ বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া হামলা নিপীড়নের একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। “আমরা যে সরকারের আমলেই হোক যত অন্যায়ের শিকার হয়েছি তার বিচার চাই এবং সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি করছি।
বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারকে চাপে ফেলতে কিংবা আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দিতে হিন্দুরা মাঠে নেমেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে তা সত্য নয়।
তিনি বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায় কথা বললে তাতে রাজনৈতিক ট্যাগ দেয়া কিংবা অন্য দেশকে টেনে আনা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলো উপেক্ষার পুরনো কৌশল। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আমরা বাংলাদেশেরই দালাল, অন্য কোনো দেশের নয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে সাথে নিয়ে এগুতে হবে এটাই আমরা বলতে চাইছি”।
বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান। প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে ধর্মপালন, ধর্মচর্চা ও প্রচারের অধিকার রয়েছে। এ অধিকার যাতে কেউ বিঘ্নিত করতে না পারে সে বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।