বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫

আ.লীগ থাকলে ঠ্যাং ভেঙে দিতো, এখনও তারা কেমনে হাঁটে

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার ওসির বিতর্কিত বক্তব্য: তদন্তের মুখোমুখি হতে পারেন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব খান এক সভায় দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। রবিবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সরফভাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘যারা ৫ আগস্টের আগে বাড়িঘর ভাঙচুর, মারপিট ও দখল করেছে, তাদের গণধোলাই দিয়ে থানায় নিয়ে আসুন। এদের কোনো ঠাঁই হবে না। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যদেরও ঠাঁই নেই।’

ভিডিওতে বিতর্কিত বক্তব্য

৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি আহসান হাবিব খান পোশাক পরা অবস্থায় বক্তব্য দিচ্ছেন। ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাততালি দিতে দেখা গেছে।

ওসি তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, ‘৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনাকারী আমাদের নেতা তারেক রহমান। তার নির্দেশেই ঢাকাকে ছয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। এই ছয় সেক্টরের লোকজন নতুন করে স্বাধীনতার জন্য কাজ করছে।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আহ্বান

বক্তব্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওসি বলেন, ‘আপনারা দলমত ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। যাকে দল নির্বাচনে প্রতীক দেবে, তার জন্য সবাই মিলে কাজ করুন। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে গেছে, তবে তাদের সহযোগীরা এখনো সক্রিয়। যারা অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের মামলা করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।

প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের সম্ভাবনা

ওসি আহসান হাবিব খান তার বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমার বক্তব্যে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। এটি আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’

অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল এই প্রসঙ্গে জানান, ‘ওসির বক্তব্যটি এখনো পর্যালোচনা করা হয়নি। যদি তিনি আবেগের বশে এমন কিছু বলে থাকেন, তবে সেটি অপেশাদার আচরণ। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পেছনের ইতিহাস

বক্তব্যের শুরুতে ওসি রাঙ্গুনিয়ার প্রয়াত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে।

এই ধরনের মন্তব্য ওসির পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় মহলে এই ইস্যু নিয়ে তোলপাড় চলছে।

 

সর্বাধিক পঠিত