
বশিরুজ্জামান, ঈদগাঁও উপজেলা প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজার জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ঈদগাঁও। জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে উপজেলাটির অবস্থান। ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে ২০২১ সালে উপজেলাটি গঠিত হয়। এর আয়তন প্রায় ১২০ বর্গ কিলোমিটার। ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলে গেলেও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন হয়নি ঈদগাঁও বাজারে।
প্রতিবছরই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে উপজেলার বৃহত্তম বাজার ঈদগাঁও বাজারে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পার্শ্ববর্তী উপজেলা রামু, কক্সবাজার বা চকরিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আসতে আসতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে অঙ্গার হয়ে যায় দোকানপাট, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির দিক ও বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অতিদ্রুত ঈদগাঁও উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের দাবী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি।
জানা যায় গত ১লা মার্চ ঈদগাঁও মাছবাজার সংলগ্ন কাঁচাবাজারে অগ্নিকান্ডের ৯টি দোকান ও ২১টি ভাড়াবাসা পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ অর্ধকোটি। এর আগে ২০২৪ সালের ২২শে মে ঈদগাঁও বাজারের ফার্নিচার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৮টি দোকান পুড়ে ভস্মীভূতসহ ক্ষতির পরিমাণ ৩০ লক্ষ টাকা। একই বছর ১৪ই জানুয়ারি ডুলাফকির বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকান ও বসতবাড়ি মিলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৪০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও উপজেলার প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ থেকে গেছে বেহিসাবি খাতার অলিখিত পাতায়। প্রতিবছর অগ্নিকান্ডে আর কতো সাজানো বসতবাড়ী ও দোকানপাট ধংস হলে কিংবা আর কতো কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলে ঈদগাঁওবাসীর প্রাণের দাবী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বাস্তবায়ন হবে? এই প্রশ্ন ঈদগাঁও উপজেলার গণমানুষের!
ঈদগাঁও বাসস্টেশন ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সাল থেকে ঈদগাঁও’র নাম রূপান্তর করে ঈদগাঁও উপজেলা করা হয়েছে কিন্তু গত ৫ কিংবা ৬ বছরে এই উপজেলার বিন্দুমাত্রই উন্নত হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদগাঁওতে ফায়ার সার্ভিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট অতিদ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের দাবি জানান।
ছাত্রনেতা আনিসুর রহমান জানান, দক্ষিন চট্টগ্রামের বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজার। এ বছর সরকারি ভ্যাটসহ প্রায় ৭ কোটি টাকায় বাজার ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত ৭ কোটি টাকার ৫-১০ শতাংশ উন্নয়ন হলে শুধু ফায়ার সার্ভিস নয় পাবলিক টয়লেট থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়ন করা সম্ভব।
ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী জনি জানান, ঈদগাঁওতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেই দূরর্বতী থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব নয়। সেখান থেকে আসতে না আসতেই সবকিছু পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। বিগত দিনগুলোতে অসংখ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবসায়ীসহ অনেক পরিবার। আশাকরছি সংশ্লিষ্ট মহোদয় অতিদ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্থাপন করে ঈদগাঁওবাসী দীর্ঘদিনের আশাপূরণের পাশাপাশি ধন-সম্পদ রক্ষা ও নিরাপদ জীবনের সুব্যবস্থা করবেন।
সাম্প্রতিককালে ঈদগাঁও উপজেলায় পরপর কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অথচ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। যদি ঈদগাঁও উপজেলায় নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস থাকলে সেই ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশেই কমে আসতো। তাই ঈদগাঁও উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবি ঈদগাঁও ফায়ার সার্ভিস স্থাপন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক অতিদ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের অনুরোধ জানান উপজেলাবাসী।