
মো: তানজিম হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের টেরিবাজারে জমে উঠেছে কেনাকাটা। পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত হলেও শবে বরাতের পর থেকেই খুচরা বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় পোশাকের সরবরাহ কম থাকায় এবার দেশি পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদাও তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
বাজারে ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টিমও দায়িত্ব পালন করবে। দোকান কর্মচারীদের নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তারা ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন। ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমানে টেরিবাজারে প্রায় দুই হাজার দোকান, ৮২টি শপিংমল এবং ৩০টির বেশি ওয়ান স্টপ শপিংমল রয়েছে। বাজারকে ঘিরে শতাধিক দর্জির দোকান গড়ে উঠেছে, যেখানে ক্রেতারা সরাসরি সেলাই করিয়ে নিতে পারেন।
এবারের ঈদ বাজারে দেশি পোশাকের দখল ৬০ শতাংশের বেশি, পাকিস্তানি পোশাক ৩০ শতাংশ এবং বাকি ১০ শতাংশ অন্যান্য পোশাক। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যবিত্ত ক্রেতারাই টেরিবাজারের প্রধান ভরসা, যাদের জন্য মানসম্পন্ন পোশাক নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
ক্রেতাদের মধ্যে দেশি পোশাকের জনপ্রিয়তা বাড়ার পেছনে মান ও নকশার উন্নতির কথা বলছেন অনেকে। এক ক্রেতা বলেন, “বিদেশি পোশাকের চেয়ে দেশি পোশাক এখন মান ও ডিজাইনে বেশ ভালো। তাই এবার দেশি পোশাকই কিনছি।” আরেকজন জানান, “দামের দিক থেকেও দেশি পোশাক বেশি সাশ্রয়ী, তাই আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য ভালো বিকল্প।”
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবারের ঈদ বাজারে টেরিবাজারসহ চট্টগ্রামের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হবে। ঈদ উপলক্ষে বাজারের ব্যস্ততা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।