শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

কুয়েটে ‘ছাত্রদলের হামলার’ প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ মিছিল

 

ইবি প্রতিনিধি:

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের ওপর ‘ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার’ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থা নিতে জোর দাবি জানান তারা।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের “আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ; আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসনের জবাব চাই; জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো; সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না, ছাত্রদলের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, কুয়েটের মতো রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর প্রথম ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মতো সন্ত্রাসী হামলা করেছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আজকে কুয়েটে যে ন্যাক্কারজনক হামলা করেছে সেটা ইবিতেও হতে পারে। সন্ত্রাসীদের অতি দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে আহ্বান জানাচ্ছি। কুয়েটের প্রশাসনকে বলবো তাদেরকে ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।যেভাবে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালাতো একইভাবে আজকের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের পরিণয় থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত তাদের।

ইবি শাখা সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় যখন সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ হামলা করে তখন আমরা সেই কার্যক্রমকে সন্ত্রাসী বলেছিলাম তেমনি বর্তমান যদি সন্ত্রাস ছাত্রদল হয়ে থাকে আমার সন্ত্রাসী বলতে আপত্তি নাই। কুয়েটে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিবকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা যেভাবে ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে সেভাবে তাদের নাম ধরে বলতে চাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরলসভাবে সংস্কারের কাজ করে যাচ্ছে সেই মূহুর্তে শেখ হাসিনার দোসররা সারা বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। সে ছাত্রদল কিংবা শিবির হোক বা ডান বাম সে যেই হোক না কেন, যদি দেশ সংস্কারে সন্ত্রাসী কায়দায় যেকোনো ধরনের হামলা সাথে জড়িত হয়, আমরা তাদের দ্রুত শাস্তি চাই। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন অর্থাৎ আমরা কারা অনেকে জানতে চায়, আমরা তারাই- ইদের পরে আন্দোলন করার মানুষ নই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রলীগ নেতাকে ধরিয়ে থানায় দিতে পারেন তাহলে পাঁচশ টাকা পুরস্কৃত করা হবে।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর থেকে কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ আছে। কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি যাতে আবার শুরু হতে পারে, সে জন্য ছাত্রদলের কর্মীরা গতকাল সোমবার ক্যাম্পাসে লিফলেট বিতরণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়, যা কুয়েটের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। কুয়েট পকেট গেট থেকে বহিরাগতরা ছাত্রদলের পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সর্বাধিক পঠিত