ইবি প্রতিনিধি:
তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্যের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে ইবি শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। এরই অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া ও ভিসি কার্যালয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে তারা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। এসময় সুষ্ঠু তদন্ত করে শাস্তির দাবি জানান তারা।
এর আগে আজ দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সকল পদ থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অপসারণ এবং রেজিস্ট্রারের পদ ইস্যুতে উপাচার্যের কার্যালয়ে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এসময় উপাচার্যের কার্যালয় থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের বের করে দিতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইবি সংসদের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সহ-সভাপতি সাদিয়া মাহমুদ মীম, সাধারণ সম্পাদক নূরে আলমসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম বলেন, "উপাচার্য, প্রক্টর এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। তাদের দ্রুত বিচার করতে হবে। উপাচার্য কার্যালয় থেকে আজকের বৈঠকে সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের বের করার অধিকার আপনাদের নেই। কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে এককভাবে কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক হতে পারে না। যদি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতেই হয়, তাহলে তা শিক্ষক ও সকল ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে হতে পারে। বর্তমান উপাচার্য ২৪ এর গণবিপ্লবের ফসল; তার দিকে আঙুল তুলে কথা বলার দুঃসাহস দেখালে আমরা আবারও রক্ত দিতে প্রস্তুত।"
ইবি সংসদের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কার্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষকের ওপর হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে, গণমাধ্যম কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের নিজেদের মতো করে বিভিন্ন পদে বসানোর জন্য বর্তমান উপাচার্যকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে।
উপাচার্যকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, আপনি কোনো গোষ্ঠীর চাপে থেকে নিয়োগ দিলে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। আজকের ঘটনায় আমরা দেখেছি, গণমাধ্যম কর্মীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং তারা বিভিন্ন লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি, যাতে পরবর্তীতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।