Chittagong Tribune

Neutral coverage and incisive analysis.

ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহনের পর মাথা ন্যারা ও হাত-পা বাধা অবস্থায় উদ্ধার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শাহাদাত হোসেন নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আটকে রেখে মাথা ন্যাড়া করে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের বিশেষ পরিসেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে মাথা ন্যাড়া ও হাত পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে।

রোববার (৬ ডিসেম্বর) সকালে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জালকুঁড়ি খেজুরতলা এলাকায় অবস্থিত ‘দীপ্তি মাদক নিরাময় কেন্দ্র’ থেকে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়। এসময় দীপ্তি মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক মা. শফিউল আজম খানকে আটক করে পুলিশ। 

উদ্ধার হওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়নের লক্ষীনগর এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি অগ্রণী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ টানবাজার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তার স্ত্রী রওশন আরা সাউথ ইস্ট ব্যাংক প্রধান শাখার নির্বাহী কর্মকর্তার (এক্সিকিউটিভ অফিসার) দায়িত্বে আছেন। দুই শিশু ছেলে সন্তান নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা এই দম্পতি শহরের ডনচেম্বার এলাকায় আলার বাড়ির পঞ্চম তলায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। 

এ ঘটনার পেছনে স্ত্রীর হাত রয়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তা শাহাদাতের পরিবার দাবি করলেও স্ত্রীর বিরুদ্ধ কোনো অভিযোগ করতে রাজি নন শাহাদাত। তার অভিযোগ, আমি মাদকাসক্ত নই। কি কারণে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন তাকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে মারধরসহ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন করেছে তার সঠিক তদন্ত চান শাহাদাত হোসেন। একই সাথে দীপ্তি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি করেন তিনি। 

শাহাদাত হোসেন জানান, মাইক্রোবাসে তুলে  কয়েকজন মিলে তাকে চড় থাপ্পর মারেন। এরপর তার চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় দীপ্তি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে। সেখানে নিয়ে প্রথমে তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়। এরপর তার সম্পদ ও ব্যাংকে কি পরিমাণ টাকা আছে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে দেরি হওয়ায় লাঠি দিয়ে হাত পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পেটায়। এক পর্যায়ে শাহাদাতের হাত, পা ও চোখ বেঁধে রাতভর মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রোববার ভোরে তার ভাই ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে সাহায্য চাইলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। 

শাহাদাতের পরিবারের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ ঘটনার পেছনে শাহাদাতের  স্ত্রী রওশন আরার ইন্ধন রয়েছে। স্বামীর অর্থ সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের সঙ্গে চুক্তি করে শাহাদাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। রওশন আরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে বলে মনে করছেন শাহাদাতের স্বজনরা। 

তবে শাহাদাতের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ অস্বীকার করে রওশন আরা বলেন, শাহাদাতের সঙ্গে সাড় তিন বছর আগে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্কের সূত্রে দুইজনের সম্মতিতে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর তাদের সংসারে পরপর দুইটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরপর তিনি জানতে পারেন শাহাদাত তাকে বিয়ে করার আগে রত্মা নামে এক হিন্দু ধর্মের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। তবে পূর্বের বিয়ের কথা শাহাদাত তার কাছে গোপন রাখেন এবং ওই স্ত্রীর সাথে শাহাদাতের সম্পর্কও রয়েছে।

রওশন আরা দাবি করেন, বিষয়টি তিনি জেনে ফেলায় সম্প্রতি শাহাদাত তাকে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করে আসছেন। তিনি বলেন, আমি ইচ্ছা করলে আইনের আশ্রয় নিতে পারতাম। কিন্তু স্বামীর সংসার করব বলেই সহ্য করে আসছি। তবে স্বামী শাহাদাতকে অপহরণের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন তিনি। 

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, স্বামী মাদকাসক্ত এবং তার চিকিৎসা প্রয়োজন বলে স্ত্রী আগের দিন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ফরম পূরণ করে আসেন। তবে কারা কি উদ্দেশে তাকে অপহরণ করে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি। 

ওসি আসলাম হোসেন আরও বলেন, এখনো ব্যাংক কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তাকে পরীক্ষা করিয়েছি এবং তিনি মাদকাসক্ত নন বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসার অভিযোগে মাদক নিরাময় কেন্দ্রটির মালিক খোকনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। এ ব্যাপারে মামলা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
বাংলা » English