
গত ৫ই জুন পূর্ব আক্রোশের জেরে একটি কোর্সে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফেইল করানোর অভিযোগ এনে খাতা পুনঃ নিরীক্ষণের জন্য তৎকালীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনের রদবদলে আটকে যায় তদন্ত প্রক্রিয়া।
বিভিন্ন সূত্র জানায় আগের প্রশাসনের পক্ষ থেকে করে দেওয়া তদন্ত কমিটি কাজ শেষ না করেই পদত্যাগ করে। বেড়ে যায় জটিলতা আর দীর্ঘসূত্রতা।
পাঁচ মাসেও পুনঃ নিরীক্ষণের সুযোগ না পেয়ে ভোক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান – গত পাঁচ মাস ধরে অপেক্ষায় আছি এখনও কোনো সুরাহা হয়নি। আগের প্রশাসন গিয়ে নতুন প্রশাসন এলো তাতেও কোনো অগ্রগতি নেই। আবার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমার ৪র্থ বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা সবকিছু মিলিয়ে মানসিক অস্থিরতা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।এই বিষয়টি মীমাংসা না হলে আমি ঐ কোর্সে সাপ্লি পরীক্ষায় বসতে পারি না। আমি চাই নতুন প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে এটির তদন্ত করে শেষ করুক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোর্স টিচার দোষী সাব্যস্ত হলে তাকেও বিচারের আওতায় আনা হোক।
তদন্ত প্রতিবেদন এবং পুনঃ নিরীক্ষণের বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোঃ এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী চট্টগ্রাম ট্রিবিউন কে বলেন- এই বিষয়ে আগের কমিটি আমাদের কে কিছু পাঠায়নি,নতুন কমিটি হলে তারা আমাদের কাছে প্রতিবেদন পাঠালে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নতুন কমিটি গঠন এবং তদন্তের বিষয়ে চবি উপ উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান বলেন -রসায়ন বিভাগের এই বিষয়ে আগের তদন্ত কমিটি কোনো কাজই করেনি। গত (১৭ অক্টোবর) আমি ফাইলটি হাতে পেয়েছি এবং নতুন কমিটি করে দিয়েছি তারা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ভোক্তভোগী ছাত্রীর ৩য় বর্ষের ফলাফলে একটি কোর্সে (Chem-3202) ফেইল আসে। পরবর্তীতে ঐ ছাত্রীর অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কোর্স টিচারের বিরুদ্ধে অতীতে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফেইল করানো হয়েছে তাই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর পুনঃ নিরীক্ষণের পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চেয়ে আবেদন করেন।