
ঢাকা হত্যাচেষ্টা মামলায় নাসিরনগরের অধিকাংশ আসামি
নিহারেন্দু চক্রবর্তী, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ঢাকার রামপুরা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার মোট আসামির সংখ্যা ৯৯ জন। তবে স্থানীয় তদন্তে দেখা গেছে, এই মামলার অধিকাংশ আসামিই ঢাকার বাসিন্দা নন এবং মূলত নাসিরনগর ও দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এই আসামিদের নাম মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।
গত ১৯ জুলাই ঢাকার রামপুরার বনশ্রী এলাকায় বেআইনি দাঙ্গা এবং গুরুতর আঘাতের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী, নাসিরনগর যুবদলের সভাপতি আব্দুল আজিজ, রামপুরা থানায় অভিযোগ করেন যে, সেখানে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্রসহ দাঙ্গার চেষ্টা হয়েছিল। তবে এজাহারে উল্লেখিত অধিকাংশ আসামিই ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন এবং তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, ঢাকা-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ওয়াকিল উদ্দিন, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন সংগ্রামসহ মোট ৯৯ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকেও আসামি করা হয়েছে। ঢাকার স্থানীয় ঠিকানা উল্লেখ করা কেবল দুই সংসদ সদস্য এবং কয়েকজন বিবাদীর। বাকিদের অধিকাংশের বাড়ি নাসিরনগর উপজেলায়।
নাসিরনগরের উল্লেখিত কিছু আসামির তালিকা: সাবেক সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম (গুনিয়াউক), নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অসীম পাল (ফান্দাউক), উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভানু দেব (গোকর্ণ), নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ সিদ্দিকী (কালিউতা), সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়েজ চিশতী (খান্দুরা), চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী সুরুজ আলী, জেলা ছাত্রলীগ নেতা রাহুল ফারদিন (বুড়িশ্বর), সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য হাকিম রেজা (ফুলপুর), লায়েছ মিয়া (ভলাকুট), শাহ আলম মেম্বার (কাঠালকান্দি), গোকর্ণ ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহিন, সেলিম মিয়া (নুরপুর), রোনাল মিয়া (নুরপুর), আসাদ (লক্ষীপুর)সহ আরো অনেকে।
রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতাউর রহমান আকন্দ জানান, “মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আসামিদের বিষয়ে বিশদ কোনো মন্তব্য এই মুহূর্তে করা সম্ভব নয়।”