
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি-
অর্থনৈতিক শুমারিতে তথ্য দিন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশ নিন”এই প্রতিপাদ্যে শুরু হয়েছে দেশের চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারির মূল তথ্য সংগ্রহের কাজ।
মঙ্গলবার এ শুমারির মূল কার্যক্রম শুরু হয়। ১৫ দিনব্যাপী এই শুমারির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে প্রতি ১০ বছর পর এমন শুমারি করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। শুমারি সফল করতে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। এর অংশ হিসাবে সীতাকুণ্ডে জনসচেতনতা বাড়াতেই বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়, হাট-বাজারে পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করাসহ নানা উপায়ে চলছে প্রচার কার্যক্রম।
চট্টগ্রাম-০৪ (সীতাকুণ্ড, মীরসরাই ও সন্দ্বীপ) জেলা শুমারি সমন্বয়কারী (ডিসিসি) মীর আন্-নাজমুস সাকিব, উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারী ও জোনাল অফিসারগণ শুমারি কার্যক্রম তদারকি করছেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অর্থনৈতিক শুমারির মাধ্যমে প্রায় ৭০টি প্রশ্ন উঠে আসবে। এবারই প্রথম ট্যাবের মাধ্যমে ক্যাপি পদ্ধতিতে এই শুমারির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এবারের শুমারিতে এ উপজেলায় মোট ০৫ টি জোনে ০১ জন উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারী (ইউসিসি) কাম জোনাল অফিসার, ০৪ জন জোনাল অফিসার, ০৫ জন আইটি সুপারভাইজার, ৩৬ জন সুপারভাইজার এবং ১৯১ জন তথ্য সংগ্রহকারী শুমারিকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যারা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও উপজেলা শুমারিকর্মী নির্বাচন কমিটি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত।
ইতিমধ্যেই লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৯ টি ইউনিট ও পরিবারের মধ্য থেকে ৬১৯০টি অর্থনৈতিক সম্পন্ন পরিবার এবং ১৭৩৬৬টি ইউনিট চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখান থেকে এবং এর বাইরে থেকেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এবার শুমারিই প্রথমবারের মতো দেশে কতজন বিদেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন, তারা কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের পদে কর্মরত এবং নারী-পুরুষ কতজন সেসব তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ( বিবিএস) কর্তৃক নিয়োগকৃত শুমারিকর্মীগণ পরিচয়পত্র সাথে নিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্যাবের মাধ্যমে উপজেলার সকল স্থায়ী/অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান (সরকারী/বেসরকারী/স্বায়ত্তশাসিত অফিস, হাটবাজার, মার্কেট/শপিং সেন্টার, দোকানপাট, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কারখানা, কোম্পানী, এনজিও, ক্লাব, হল, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মসজিদ/মন্দির/গির্জা/প্যাগোডা ইত্যাদি), প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি খামার এবং কৃষি বহির্ভূত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডসম্পন্ন খানায় (পরিবার) ইউনিটের পরিচিতি, অর্থনৈতিক কার্যাবলি, জনবল, সম্পদ এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম রফিকুল ইসলাম এক গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন এবং সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা শুমারি সমন্বয়কারী (ডিসিসি) মীর আন্-নাজমুস সাকিব জানান, শুমারির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ করার জন্য জিওগ্রাফিক্স ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ও জিওকোড সমন্বয় করে ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করা হয়। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত ট্যাবলেটগুলো মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট (এমডিএম) সফটওয়্যার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে ডিভাইসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (বিডিসিসিএল) সমৃদ্ধ ডেটা সেন্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায় থেকে বিডিসিসিএল হয়ে বিবিএস সার্ভারে আসার আগ পর্যন্ত সংগ্রহ করা সব তথ্য-উপাত্ত গোপন অবস্থায় থাকবে। এর মাধ্যমে পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী একদিকে তথ্য সংগ্রহে শুমারি কর্মীদের সহযোগীতা করা অপরদিকে এই আইন দ্বারা জনসাধারণের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত তথ্যর নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে।
সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও প্রবণতা সম্পর্কে সঠিক ও আপডেটেড তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।