শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫

“যদি আদর্শ ভালো লাগে ওয়েলকাম, আর ভালো না লাগলে থ্যাংক ইউ- শাখা শিবির সভাপতি 

ইবি প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান বলেছেন, আমাদের অবস্থান হচ্ছে- যে যেরকম আদর্শ ধারণ করে, তারা সেটা নির্দ্বিধায় প্রচার করুক। আমাদের আদর্শ আমরা প্রচার করি এবং যদি আমাদের আদর্শ ভালো লাগে ওয়েলকাম , আর ভালো না লাগলে থ্যাংক ইউ।

 

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি’র করিডোরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নে তিনি এমন বক্তব্য করেন।

 

তিনি বলেন, মানুষের নৈতিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র তৈরির জন্য সৎ, দক্ষ, যোগ্য নাগরিক তৈরি করার চেষ্টা করে ইসলামী ছাত্রশিবির। ইসলামী ছাত্রশিবির শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি আদর্শিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার কাজ সবসময় একটি আদর্শ লালন করা, যে আদর্শ মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও অধিকার আদায়ের কথা বলে। শিবির সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাদের ধর্মীয় কোন চর্চার বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারি না। এসময় তিনি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

 

তিনি আরও বলেন, আজকের আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো ভিন্নধর্মাবলম্বীদের মতামত জানা। আমরা সবাই একসাথে কাজ করে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে চাই। আমাদের নিয়ে যে অপপ্রচার হয়েছে, সেই অপপ্রচার রোধকল্পে আমরা আমাদের প্রকাশনা উৎসব করেছি, সেখানে সবাই দেখেছে আমরা কী কী বই পড়ি। এটার মাধ্যমে ছাত্ররা বুঝতে পেরেছে তারা আমাদের উপর কীভাবে ব্লেমগেম খেলতো। আমরা চাই প্রতিটা ধর্মই মূল্যায়ন হোক।

 

মতবিনিময় সভায় এক শিক্ষার্থী প্রশ্নে (যারা অন্য আদর্শে বিশ্বাস করে তাদের প্রতি আপনাদের দলীয় অবস্থান কী?) শাখা সভাপতি বলেন, অন্য আদর্শে যিনি বিশ্বাস করেন তার প্রতি আমার অবস্থান হলো আপনি আপনার আদর্শের প্রচার করেন, আমি আমার আদর্শের প্রচার করি। যদি আমার আদর্শ কারো ভালো লাগে তাহলে ওয়েলকাম না-হলে থ্যাংক ইউ। ছাত্র রাজনীতি নিয়ে কিছুদিন আগেও একটা আলোচনা হয়েছে, সেখানেও আমরা বললাম যে ক্যাম্পাসটা হবে মূলত ‘মার্কেট প্লেস অব ভ্যালুস’। আমরা চাই এখানে মূল্যবোধের চর্চা হবে। প্রত্যেকটা জাতির, প্রত্যেকটা ব্যাক্তির, প্রত্যেকটা গোষ্ঠীর এখানে কথা বলার সুযোগ আছে। এখানে বাঁধা দেয়ার কেউ নাই। এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান আমরা স্পষ্ট করছি। আপনারা আপনাদের মেসেজগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছান। শিক্ষার্থীরা যাদেরকে পছন্দ করেন, যে আদর্শকে গ্রুহণ করতে তারা স্বাচ্ছন্দবোধ করেন, সে আদর্শই তারা গ্রহণ করবে। আমরা সেটাকেই এপ্রিশিয়েট করবো ইনশাআল্লাহ। আর কাউকে বাধ্য করাটা ইসলাম কখনও সমর্থনও করে না। একজন মুসলিম কখনও একজন হিন্দুকে অথবা বৌদ্ধকে অবথবা খ্রিস্টানকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করতে পারবে না। এবং এটা হচ্ছে হারাম তথা কবিরা গুণাহ। আমি একজন অমুসলিমকে কখনোও বলতে পারবো না যে নামাজ পড়ো। কিন্তু আমি আমার মুসলিম ভাইকে বলতে পারবো। মুসলিমরা মনে করে যে নিজের আপন ভাইকেও নামাজের জন্য বলা যাবে না। ব্যাপারটা কিন্তু এরকম নয়। আপনি অন্য ধর্মাবলম্বী কাউকে নিজের ধর্মের যে মৌলিক কাজ সেগুলো করার জন্য জোর করতে পারেন না। অন্য ধর্মাবলম্বী ভাইয়েরা তো তাদের ধর্মের ব্যাপারে আমাদেরকে বলতে পারেন। আমরাও আমাদের ধর্মের ব্যাপারে তাদের বলবো। আমরা সেটাই চাই।

সর্বাধিক পঠিত